রাকিব: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ দুই দশক পর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নতুন মন্ত্রিসভায় কারা জায়গা পাচ্ছেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন সবখানেই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত যেসব তালিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার অধিকাংশই অনুমাননির্ভর।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকা বর্তমানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয় নথিতে সীমাবদ্ধ। অভ্যন্তরীণভাবে একে ‘সিক্রেট ফাইল’ বলেই অভিহিত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির দু-একজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে পরামর্শ হলেও অধিকাংশ নীতিনির্ধারকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। জ্যেষ্ঠ নেতারাও মন্ত্রিসভা গঠনের পূর্ণ ক্ষমতা দলীয় চেয়ারম্যানের ওপরই ন্যস্ত করেছেন। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অনেকেই মন্ত্রিত্বের আশায় নানাভাবে সক্রিয় হয়েছেন। কেউ আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের অবদান, কেউ জেল-জুলুম সহ্য করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
তবে দলীয় চেয়ারম্যানের কাছে সরাসরি তদবির করার সাহস পাচ্ছেন না কেউই। এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন সেটি আমার জানা নেই। সামাজিক মাধ্যমে যা দেখছেন তা স্রেফ ধারণা। আমাকে এখনো কোনো ফোন দেওয়া হয়নি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি দক্ষ ও শিক্ষিত তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সবকিছু মিলিয়ে, গেজেট প্রকাশ ও শপথ অনুষ্ঠানের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা গোপনই থাকছে। আপাতত রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় তারেক রহমানের সেই বহুল আলোচিত ‘সিক্রেট ফাইল’।
Vairal News BD News and Entertainment